শুক্রবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ৪:৩০
শিরোনাম :
সিসা দূষণ প্রতিরোধে বিএম কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা বিআরটিসি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপনের প্রতিবাদ বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান ছালেহের পিতার মৃত্যুতে রুহুল কবির রিজভীর গভীর শোক প্রকাশ জনপ্রশাসনের কাজে অসহযোগিতাকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হতে হবে:বিসিসি প্রশাসক শিরীন বরিশাল ভাটারখাল বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন,সভাপতি:ফয়সাল,শিক্ষানুরাগী:মামুন-অর-রশিদ বিএম কলেজে সবুজ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএম কলেজে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সিসা দূষণ প্রতিরোধে বিএম কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

মেহেরাব হোসেন রিফাত,বরিশাল ।। শিশুদের রক্তে সিসার উপস্থিতি ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কলেজের শতাধিকের অধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির শুরুতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সিসার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পরে সিসা দূষণ প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসসহ বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্টিকার লাগানো এবং বিভিন্ন দোকানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।বরিশালে কর্মসূচিটির কো-অর্ডিনেট করেন মো. সজিব, মো. মেহেরাব হোসেন, অনামিকা, রিফাত ও জামিল।

বরিশালে কর্মসূচির কো-অর্ডিনেটর মো. সজিব বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিসা দূষণ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য এ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে।

আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সিসা দূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর সনাক্তকরণ থেকে প্রতিরোধে প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২০২৬ সালের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ১৭টি জেলার ২৫টি উপজেলার স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিসা দূষণবিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় তরুণদের সম্পৃক্ত করে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুর রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। সিসা একটি বিষাক্ত ভারী ধাতু, যা মস্তিষ্ক, কিডনি ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও আচরণের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সিসাযুক্ত ধুলা ও ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ এবং দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এটি মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিসার এমন কোনো মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসার সংস্পর্শ কমাতে দূষণের উৎস শনাক্ত করা, নিরাপদ খাবার ও পানি নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।